চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন লন্ডন সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৯ মে তিনি দেশ ত্যাগ করবেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, সফরে তার সঙ্গে থাকবেন তার সহধর্মিণী ডা. রেবেকা সুলতানা এবং ৬-৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। এদের মধ্যে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকও থাকবেন। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। সফর শেষে আগামী ১৭ মে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় দুই বছর পর চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশ যাচ্ছেন তিনি।
নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই সফরটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাজনিত এবং এতে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সময়মতো তিনি তার সহধর্মিণীসহ নির্ধারিত দেশে রওনা দেবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি ২০২৩ সালে হৃদরোগের কারণে কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি করিয়েছিলেন। এরপর থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বয়স এখন ৭৬ বছরের কাছাকাছি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার হার্টের বাইপাস সার্জারি হয়। এরপর ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি দুবাই হয়ে লন্ডনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে যান এবং সেখান থেকে ফিরে আসেন। এরপর আর তিনি চিকিৎসা নিতে বা নিয়মিত চেকআপ করাতে দেশের বাইরে যাননি।
রাষ্ট্রপতির বয়সজনিত কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি হলেও তা সবসময় বিদেশে সম্ভব হয় না। দেশের ভেতরে বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের কিছু পরীক্ষা ও চিকিৎসা কেবল বিদেশেই পাওয়া যায়।
সাধারণত রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেশের ভেতরেই সম্পন্ন হয়। তবে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তিনি বিদেশে যান। কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারির পরে নিয়মিত চেকআপ প্রয়োজন হলেও তা বিলম্বিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তার চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নিলে তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ যেতে চাইলেও তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। যেহেতু রাষ্ট্রপতির ঘন ঘন বিদেশ সফর হয় না এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও তার কার্যক্রম মূলত আনুষ্ঠানিক, তাই চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রা করতে হলে সরকারের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমতি না থাকায় তিনি নিয়মিত চেকআপে যেতে পারেননি।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি এক গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চাইলেও তা পাননি। লন্ডনের কেমব্রিজ পার্কওয়ে হাসপাতালসহ বিদেশে চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকা সত্ত্বেও তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। এটিকে তিনি ‘মানসিক পীড়ন’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বড় বিজয় লাভ করলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে প্রেস উইং পুনর্বহাল করা হয়। বর্তমানে তিনি অনেকটাই স্বস্তিতে আছেন।
রাষ্ট্রপতির এ আসন্ন লন্ডন সফর তার পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সফরগুলোর ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার অনুপস্থিতিতে সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।
