মডেল মসজিদে নামাজ আদায় হলেও মাইকে শোনা যায় না আজান

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় হলেও মাইকে শোনা যায় না আজানের ধ্বনি। সাউন্ড-সিস্টেমের ত্রুটিসহ নানা সমস্যায় মসজিদটিতে নামাজ আদায়ে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়ছেন মুসল্লিরা। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মসজিদের মাইক বিকল থাকায় মুয়াজ্জিন মাইক্রোফোন ছাড়াই আজান দিচ্ছেন। দুর্বল মোটর পাম্প চাহিদা অনুযায়ী পানি তুলতে না পারায় অজু করতে গিয়ে প্রায়ই সমস্যায় পড়ছেন মুসল্লিরা। এছাড়া মসজিদের অভ্যন্তরে শয়নকক্ষে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র না থাকায় ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, মসজিদটি চালুর পর থেকেই নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন বলেন, “এটি একটি মডেল মসজিদ, অথচ এখান থেকে আজানের শব্দ মানুষের কানে পৌঁছায় না—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।” তারা আরও জানান, অজুর পানির সংকটসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় মসজিদটির অবস্থা যেন ‘উপরে ফিটফাট, ভিতরে সদরঘাট’।

স্থানীয়রা জানান, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম মসজিদটিতে নামাজ আদায় করতে আসলে মুসল্লিরা এসব সমস্যার কথা জানান। পরে তিনি বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেন এবং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

মসজিদের খতিব মুফতি হাবিবুল্লাহ বলেন, প্রায় ১১ মাস ধরে নানা জটিলতায় মসজিদে নামাজ পরিচালনায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সুপেয় পানির তীব্র সংকটের কারণে পাশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। একটি পানির ফিল্টার থাকলেও সংযোগ না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দ্রুত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নির্মাণ প্রকৌশলীর স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার সফিকুল ইসলাম জানান, মসজিদের কাজ তিন দফায় টেন্ডার হয়েছে। সর্বশেষ গত মাসেও একটি টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দফায় দফায় টেন্ডারের কারণে কাজ হস্তান্তরে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) সরঞ্জাম স্থাপন সম্পন্ন হলে চলতি মাসের মধ্যেই প্রকল্পটি কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা মডেল মসজিদের সভাপতি ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজালা পারভীন রুহী বলেন, ঠিকাদার এখনো আমাকে প্রজেক্ট হ্যান্ডওভার করেনি। মসজিদের সাময়িক কিছু অসুবিধার বিষয়ে তিনি অবগত আছেন বলে জানান। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহযোগীতা ও নির্দেশনা দেয়ার কথা জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা হলে গণপূর্ত বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান হিরা ইত্তেফাক-কে বলেন মসজিদটি চালু করা হলেও কর্তৃপক্ষকে এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। তাছাড়া গতমাসে মসজিদের শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত সরঞ্জামাদী (এসি) সরবরাহে টেন্ডার হয়েছে এগুলো এ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মসজিদের সাউন্ড সিস্টেমসহ বিভিন্ন অসুবিধার বিষয়ে অবগত আছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন নামাজের জন্য এগুলো মসজিদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি, এ সকল বিষয়ে কেউই অবগত করেননি। প্রতিবেদকের সাথে কথা শেষে বিষয়গুলো অভিযোগ আকারে নিয়ে মুসুল্লীদের নামাজ আদায়ে যেন কষ্ট না হয় অতি দ্রুতই কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।

Leave a Comment

Scroll to Top