অস্ট্রেলিয়াগামী একটি জাহাজ থেকে প্রায় ৫ টন কোকেন জব্দ করে সাগরে ফেলে দিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। তবে বিস্ময়করভাবে জাহাজটি এবং এর নাবিকদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়েই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফরাসি পলিনেশীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, কারাগারে স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং আইনি এখতিয়ারের জটিলতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফরাসি পলিনেশিয়ার নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় ২ সপ্তাহ আগে ‘এমভি রেইডার’ নামের একটি সন্দেহভাজন জাহাজ আটক করে ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী। জাহাজটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় পাঁচ টন কোকেন উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১.৫ বিলিয়ন (১৫০ কোটি) মার্কিন ডলার। জাহাজটিতে হন্ডুরাস ও ইকুয়েডরের নাগরিকসহ মোট ১১ জন নাবিক ছিলেন।
উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ কোকেন তাৎক্ষণিকভাবে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে ফরাসি পলিনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট মোয়েতাই ব্রথারসন বলেন, সব মাল সাগরে ফেলে দেওয়ায় মাদক কারবারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়।
মাদক ধ্বংস করা হলেও জাহাজ ও নাবিকদের আটক না করে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট ব্রথারসনের মতে, ফরাসি পলিনেশিয়ার কারাগারগুলো ইতোমধ্যে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দীতে পূর্ণ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মাদক বহনকারী কয়েকটি জাহাজের নাবিক আমাদের কারাগারে রয়েছে। সব মাদক পাচারকারীকে আটক রাখার দায়িত্ব আমাদের নয়।
তিনি আরও জানান, জাহাজটি ফরাসি পলিনেশিয়ার একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলের (EEZ) বাইরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক হওয়ায় এর বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। ব্রথারসনের মতে, জাহাজটির ছেড়ে আসা দেশ বা গন্তব্য দেশেরই উচিত এ বিষয়ে তদন্ত ও বিচারকাজ পরিচালনা করা। তিনি বলেন, এটি দায়িত্বের প্রশ্ন নয়, বরং কে মামলা চালাতে চায় সেটাই প্রশ্ন।
মুক্তি পাওয়ার পর এমভি রেইডার ইঞ্জিনে ত্রুটির কথা জানিয়ে বিপদ সংকেত পাঠায় এবং কুক দ্বীপপুঞ্জের রারোটোঙ্গা জলসীমায় প্রবেশ করে আভাতিউ বন্দরে নোঙর করে। কুক দ্বীপপুঞ্জের কাস্টমস বিভাগ জানায়, ২৪ জানুয়ারি জাহাজটিতে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। নাবিক ও ক্যাপ্টেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বর্তমানে মাদক পাচারের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। নিউজিল্যান্ড সরকারের ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপদেষ্টা স্টিভ সাইমন জানান, আগে এশিয়া হয়ে মাদক আসলেও এখন আমেরিকা মহাদেশ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে পাচারের নতুন রুট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে মাদকের উচ্চ চাহিদা ও চড়া দামই এই পাচারকে উসকে দিচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে গত এক বছরে প্রতি সপ্তাহে যে পরিমাণ মেথামফেটামিন জব্দ হয়েছে, ২০১৪ সালে পুরো বছরে সেই পরিমাণ জব্দ হতো।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২ সপ্তাহে তারা অন্তত দুটি মাদকবাহী জাহাজ আটক করে ছেড়ে দিয়েছে। বুধবার আরও একটি জাহাজ থেকে ৪.২৫ টন কোকেন জব্দ করে সাগরে ফেলে দেওয়া হয় এবং নাবিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতির সামাজিক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ব্রথারসন। তিনি জানান, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে মাদকের প্রভাবে উৎপাদনশীলতা কমছে এবং অপরাধ বাড়ছে। ফিজিতে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের ফলে এইচআইভি ও সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
