সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বিল (সংশোধন) আইন, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। গত বছর ওই অধ্যাদেশের বলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বিলটি পাস হওয়ার ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এ-সংক্রান্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস হয়। পাস হওয়া বিলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
এই বিল পাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আর কোনো রাজনৈতিন কার্যক্রম চালাতে পারছে না বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ। অবশ্য বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আইনের ভিত্তিতেই একাধিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধ হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে দখলদার পাকিস্তান সরকার। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগের তিনটি অংশ, পিডিপিসহ স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী এবং সব ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে।
ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে একদলীয় শাসন চালু করেন শেখ মুজিব। এমনকি নিজদল আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়। গঠন করা হয় বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল)। সে সময় শেখ মুজিবের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুসে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাকশালের কার্যক্রমসহ সব রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ করা হয় সামরিক আইনে। অবশ্য রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মো. সায়েম ১৯৭৬ সালে রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।
রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মো. সায়েম রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে বাকশাল থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবিত করেন জোহরা তাজউদ্দিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা। তবে নেতৃত্বের বিরোধে আওয়ামী লীগ (মালেক) এবং আওয়ামী লীগ (মিজান) দুই ধারায় বিভক্ত হয়।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর ১৯৭৯ সালে জামায়াতসহ নিষিদ্ধ সব দল রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়। তবে সে বছরই ভোটের রাজনীতিতে ফিরতে পারেনি। জামায়াত নেতারা ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল) নামের একটি দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৩ সালে হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াত ও ছাত্রশিবিরিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করে। ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর গঠিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছল আগস্টে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
তবে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (পিবিএসপি) এবং পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (পিবিসিপি) এখনো নিষিদ্ধ। এই দুটি চরম বামপন্থি মাওবাদী সংগঠন সশস্ত্র বিদ্রোহ ও চরমপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে এখনও নিষিদ্ধ রয়েছে।
এর আগে, ২০০৫ সালে দেশব্যাপী একযোগে বোমা হামলার পর জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশকে (জেএমবি) সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করা হয়। ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ উসকে দেওয়া ও খেলাফত কায়েমের প্রচেষ্টার অভিযোগে হিজবুত তাহরিরের বাংলাদেশ শাখাকেও নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এ নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ থাকলেও দলটি এখনও দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
