গণভোটের রায় ও প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে কোনো ধরনের নয়-ছয় বরদাস্ত করা হবে না—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছে দেশের বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানোই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুলসংখ্যক ভোটার অংশ নেন। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, অধিকাংশ ভোটার সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, গণভোটের রায় কোনো রাজনৈতিক দরকষাকষির বিষয় নয়। এটি জনগণের সরাসরি মতামত, যা দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় জনমনে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
এক বিবৃতিতে তারা আরও উল্লেখ করেন, “সংস্কারের প্রশ্নে কালক্ষেপণ বা আইনি জটিলতার অজুহাত তুলে সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে বার্তা দিয়েছে, তা স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন।”
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে সংবিধান ও আইনের আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই সব পক্ষকে সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, জনগণের স্পষ্ট রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে এবং কোনো ধরনের নয়-ছয়ের সুযোগ রাখা হবে না।
