কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে বিশেষ প্রতীকযুক্ত টোকেনের মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশের মাসিক চাঁদা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। চালকদের দাবি, মাছ, দুই পাখি কিংবা বটগাছের প্রতীকযুক্ত টোকেন সংগ্রহ করলে মাসজুড়ে আর কোনও ঝামেলা থাকে না। তবে মাসিক চুক্তিতে রাজি না হলে কাগজপত্র ঠিক থাকলেও মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়।
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে হাজার হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপভ্যান, মাইক্রোবাস ও দূরপাল্লার পরিবহন। চালকদের অভিযোগ, কটিয়াদী-ভৈরব অংশে নির্দিষ্ট টোকেনের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
সিএনজি অটোরিকশা চালক শরীফ মিয়া বলেন, ‘মাসে ৫০০ টাকা দিলে আর ঝামেলা নেই। না দিলে নানা অজুহাতে মামলা দেয়। গাড়ির সব কাগজ ঠিক থাকলেও বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে টাকা নেয়। না দিলে মামলা দেয়। ভয়ে টাকা দিয়ে দেই। চাঁদা না দিলে মামলা ও রিকুইজিশনের ভয়।
চালকদের দাবি, মাসিক চুক্তিতে রাজি না হলে গাড়ি রিকুইজিশন ও মোটরযান আইনে মামলার ভয় দেখানো হয়। ভৈরব-ময়মনসিংহ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত টাকা আদায়ের কথাও জানিয়েছেন তারা।
সিএনজি চালক আলমগীর মিয়া ও শামীম মিয়া বলেন, ‘হাইওয়ে রোডে উঠলেই মাসে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হয়। না দিলে গাড়ি আটক করে মামলা দেয়। তখন খরচ পড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।’
চালকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার সিএনজি এই সড়কে চলাচল করে। চালকপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা হিসেবে এক থানায় আদায় দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া দুই থেকে তিন হাজার পিকআপভ্যান ও অন্যান্য পরিবহন থেকে মাসে কমপক্ষে ১ হাজার টাকা করে আদায় করলে মোট পরিমাণ অর্ধকোটি টাকারও বেশি হতে পারে। ভৈরব ও কটিয়াদী এই দুই থানায় এ হিসাব কোটি টাকার ওপর ছাড়াতে পারে বলে দাবি তাদের।
পুলিশের পোশাকে (কটি) ‘ভাগনে’!
কটিয়াদী উপজেলার সদরের বাসিন্দা ছন্দু মিয়া ও জীবন মিয়া জানান, কটিয়াদী হাইওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মারগুব তৌহিদ তার ভাগনে নাঈম হাসানকে পুলিশের পোশাক (কটি) পরিয়ে দায়িত্বে রাখছেন এবং টোকেন বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। সড়কে তিনি ‘ভাগিনা নাঈম’ নামে পরিচিত। কেউ কথা না শুনলে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মারধরের অভিযোগও করেন তারা। সরেজমিনে পুলিশের পোশাক (কটি) পরিহিত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে দেখা গেছে। পুলিশের কটি পরিহিত ছবি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
নিরাপদ সড়ক চাই, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. ফিরোজ উদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, ‘টোকেন পদ্ধতিতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সড়ককে অনিরাপদ করছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিত।’
অভিযোগের বিষয়ে পরিদর্শক মো. মারগুব তৌহিদ বলেন, ‘কাজের সুবিধার্থে মাঝেমধ্যে স্বেচ্ছাসেবক নেয়া হয়। তবে কোনও ধরনের চাঁদাবাজি করা হয় না।’ ভাগনেকে পুলিশের পোশাক (কটি) পরানোর বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে ইমতিয়াজ আহমেদ, ডিআইজি (প্রশাসন), হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের যেকোনো অনিয়ম নজরে এলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
