ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি, অথচ ৮০ হাজার কোটি বাড়িয়েছে ইউনূস সরকার

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় বসেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অতিমূল্যায়িত ও প্রশ্নবিদ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার করেছিল। বারবার সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের নামে অযৌক্তিক ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধ করার পাশাপাশি এডিপির আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলো কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে—এমন আশ্বাসও দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বাস্তবে হয়েছে ঠিক তার উল্টো। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যত উল্টোপথে হেঁটেছে। ক্ষমতায় বসে অতিমূল্যায়িত ও প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্পে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বদলে পুনর্মূল্যায়নের নামে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। সরকারি নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় কমার বদলে বরং ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে একের পর এক প্রকল্পের ব্যয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেড় বছরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ১৯টি সভা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব সভায় ৮৭টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বৈঠকে গড়ে প্রায় পাঁচটি প্রকল্পে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র সাতটি প্রকল্পের ব্যয় কমানো হয়েছে, বিপরীতে ৬৫টি প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। ১৫টি প্রকল্পের ব্যয় অপরিবর্তিত রাখা হলেও কাজ শেষ করার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

তথ্য বলছে, ৭টি প্রকল্পের ব্যয় কমানোয় মোট সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা, যা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর আগের ব্যয়ের মাত্র ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিপরীতে ৬৫টি প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। এসব প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধনের পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকায়—অর্থাৎ মোট ব্যয় বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দেড় বছরে ১৩৫টি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় অনুমোদন পেয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় বাস্তবায়িত হবে এমন প্রকল্প। বিপরীতে ২১টি জেলার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রকল্প পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন—প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি ও দক্ষতা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন বাজেটে অপচয়ের পুরোনো চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সংশোধনী সিদ্ধান্তে যে ব্যয় বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে, তা সেই ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছবি। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল, তারা উন্নয়ন প্রকল্পে কঠোর নজরদারি করবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাবে; কিন্তু বারবার প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানো সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইউনূস সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে সংশোধিত যে প্রকল্পগুলো অনুমোদন পায়, তার একটি ছিল বাখরাবাদ-মেঘনাঘাট-হরিপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্প। আগে যেখানে ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা, সেখানে তা বাড়িয়ে করা হয় ১ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ২৬৬ কোটি টাকা। একই বৈঠকে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক একটি কর্মসূচির ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ১৬৩ কোটি টাকা।

মেয়াদের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করে ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করে। ২০১৬ সালে অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা, যা পরে বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

ঢাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য নেওয়া পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপেও বড় অঙ্কের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকায়। এখন এর ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ১৫ কোটি টাকায়, অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ১১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা বা আড়াই গুণেরও বেশি।

সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ (এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ) প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ৭ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা। মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ৬ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শহরের পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার একটি প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বিতর্কিত প্রকল্পগুলোর একটি হলো উপজেলা পর্যায়ে ছোট স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা। সংশোধনের পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকায়—অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ১ হাজার ২০৬ কোটি টাকা বা প্রায় ৪৮ শতাংশ। ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ২ হাজার ৪৩৯ কোটি, আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ প্রকল্পে ২ হাজার ৪০ কোটি, পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে ১ হাজার ৪৪৫ কোটি, পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা প্রকল্পে ১ হাজার ৭৬ কোটি, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ/পুনর্বাসন প্রকল্পে ৯৩৭ কোটি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভৌত সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রকল্পে ৭৭৫ কোটি টাকা।

এ ছাড়াও পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন প্রকল্পে ৪৬০ কোটি, বুড়িগঙ্গা ও অন্যান্য নদীর তীরভূমিতে অবকাঠামো নির্মাণে ৪২৭ কোটি, ইমার্জেন্সি মাল্টিসেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স প্রকল্পে ৩৬১ কোটি, বিসিক মুদ্রণ শিল্প নগরী প্রকল্পে ৩০৯ কোটি, ঘোড়াশাল ৪নং ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্পে ২৩৮ কোটি, তৃতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন প্রকল্পে ২৩০ কোটি, নারায়ণগঞ্জের খানপুরে বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে ২২৩ কোটি, ঢাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পে ২১৩ কোটি, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, চট্টগ্রাম জোন প্রকল্পে ২১২ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলোতে ২০০ কোটি টাকার নিচে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এর বাইরে পরিকল্পনা উপদেষ্টা কর্তৃক অনুমোদিত অনেক প্রকল্পেও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এসব প্রকল্পের অধিকাংশই আগের সরকারের সময় অনুমোদিত হলেও ব্যয় সংশোধনের সিদ্ধান্ত এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে।

এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম শুধু মেট্রোরেল। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে একমাত্র বড় প্রকল্প হিসেবে এই প্রকল্পে ব্যয় কিছুটা কমানো হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৩২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এতে সাশ্রয় হয়েছে ৭৫৪ কোটি টাকা, যা মূলত স্টেশন-প্লাজা উন্নয়ন ও জমি অধিগ্রহণের কিছু অংশ বাদ দেওয়ার কারণে।

অবশ্য পরিকল্পনা কমিশনের সদ্য সাবেক এক সদস্যের দাবি, যে সব প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবিক পক্ষেই প্রয়োজন ছিল। অপ্রয়োজনীয় কোনো প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়নি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ২৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে শুধু ডলার রেট বাড়ার কারণে। এমনিতে ব্যয় বাড়েনি।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিগত সরকারের আমল নিয়ে শ্বেতপত্র তৈরির জন্য কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে। এ সময় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের খরচের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি যখন সরকারের দায়িত্ব নেয়, তখন দেশি-বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। তারা বিদায় নেওয়ার সময় ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায়। বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল দেনা রেখে যায় তারা। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকার সতর্ক অবস্থান নেয়। বড় ও অগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প না দেওয়ার কথা বলা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল বিনিয়োগের দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রকল্প অনুমোদনে কঠোরতা আনা। একনেকের বৈঠকগুলোয় ছোট কিন্তু উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প দ্রুত যাচাই এবং ভূমি অধিগ্রহণের ওপর নির্ভরতা কমানোর কথাও উঠে আসে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, এসব নীতিগত ঘোষণার সঙ্গে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তন হলেও প্রকল্প সংশোধনের পুরোনো সংস্কৃতি ভাঙতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। বরং ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা জনগণের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি বাংলাদেশের পুরোনো সমস্যা। কাজ বন্ধ বা বিলম্বিত হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আউটসোর্সিং কর্মীদের বেতন-ভাতা, অফিস ভাড়া ও পরিচালন ব্যয় চলতেই থাকে। পাশাপাশি বিনিময় হার পরিবর্তন, রেট শিডিউল হালনাগাদ, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও নকশা সংশোধন ব্যয় বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে দেখানো হয়। তাদের মতে, একনেকের দেড় বছরের সংশোধনী সিদ্ধান্তে যে ব্যয় বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে, তা সেই ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছবি। যদিও মেগাপ্রকল্পগুলোয় ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে বড় অবদান ডলারের বাড়তি দাম বলেও মনে করেন তারা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, বড় প্রকল্পগুলোয ব্যয় বাড়ার প্রধান কারণ ডলারের দাম বৃদ্ধি। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ২৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে, সেটার পেছনে অন্যতম কারণ ডলারের রেট বৃদ্ধি। এ ধরনের প্রকল্পগুলো যখন অনুমোদন হয়েছিল তখন ডলারের দাম কম ছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে ডলারের দাম বেড়েছে।

তবে ভিন্ন কথা বলছেন সাবেক পরিকল্পনা সচিব মো. মামুন আল রশীদ। তিনি বলেন, এক কথায় অন্তর্বর্তী সরকার না বুঝে বাগাড়ম্বর করেছে এবং কাজ করতে গিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, কোনো কিছুর ওপরই তাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ডলারের দাম বৃদ্ধিকে একটি গতানুগতিক অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হলেও মূল সমস্যা ছিল প্রকল্পগুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকা।

তিনি বলেন, সংস্থাগুলোর পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্যয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আটকানো সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া পরিকল্পনা উপদেষ্টার পাণ্ডিত্য থাকলেও তাকে তথ্য দিয়ে কারিগরিভাবে সহায়তা করার মতো দক্ষ ও আন্তরিক টিমের অভাব ছিল, যারা এসব প্রস্তাব চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে পারতেন। যথাযথ যাচাই-বাছাই করার সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তির অভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্প ব্যয় নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। সামগ্রিকভাবে, এই ব্যর্থতা তাদের পূর্বের অঙ্গীকারের সঙ্গে স্পষ্টত সাংঘর্ষিক।

সূত্র- কা লবেলা।

Leave a Comment

Scroll to Top