যারা নিজেদের দল সামলাতে পারেন না, তারা কীভাবে দেশ চালাবেন: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যারা নিজেদের দল সামলাতে পারেন না, তারা কীভাবে দেশ চালাবেন। ৫ আগস্টের পর তারা নিরীহ মানুষদের মামলা দিয়ে খাজনাপাতি তুলেছেন। মানুষ তাদের প্রতি অতিষ্ঠ।’

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট আর সি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জীবন দিতে রাজি আছি, কিন্তু কোনো মায়ের ইজ্জত দিতে রাজি নই। কেউ কেউ ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল, কিন্তু তা তাদের দিকেই ফিরে গেছে। আমি যেটা বলিনি, সেটা নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমরা দেশে মা ও মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিজয়ী হলে দেশে আর কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটবে না। ৫ আগস্টের আগে অহরহ এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কোনো মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হবে না।’ তিনি বলেন, দেশে বহু নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা আর হতে দেওয়া যাবে না।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমরা বিজয়ী হলে দেশের সব মানুষ বিজয়ী হবে।’ তিনি বলেন, সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করে সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর দেশ গড়তে চায় জামায়াতে ইসলামী, যেখানে বিচার ব্যবস্থাও সবার জন্য সমান হবে।

দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্নীতির ডাল বা পাতা ধরে টান দেব না, আমরা ঘাড় ধরে টান দেব। চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ২৮ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করে পাচার করা হয়েছে। এই টাকা ফিরিয়ে আনতে হলে যারা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নয়, তাদেরই ক্ষমতায় আনতে হবে। যারা লুটপাট করেছে, তারা কখনো এই টাকা ফেরত আনবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এলে বিচার হবে সবার জন্য সমান। সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যেমন বিচার হবে, রাষ্ট্রপতি অপরাধ করলেও একই বিচার হবে।’

দলের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অফিসে যেতে দেওয়া হয়নি, সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, একমাত্র জামায়াতের হাজার হাজার কর্মীকে আটক করা হয়েছে, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসবের পরও তারা জনগণের জন্য কাজ করে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে অঢেল সম্পদ ছিল না। কিন্তু ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে আমরা মানুষের পাশে থেকেছি। ৫ তারিখের পর যখন সুযোগ পেয়েছি, তখন কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নিইনি, কোনো মামলা করিনি। আমরা মানুষের সম্পদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করেছি।’

ভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘১২ তারিখের প্রথম ভোট হবে গণভোট—হ্যাঁ ভোট। পরের ভোট হবে দাঁড়িপাল্লায়। একটা বার সুযোগ দেন। কোনো ধর্ম বা বর্ণের বৈষম্য থাকবে না। যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী দেশ গড়া হবে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ থাকবে, তবে তার চরিত্র বদলে যাবে—এটি হবে গণমানুষের বাংলাদেশ।

Leave a Comment

Scroll to Top