ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। পাশাপাশি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনের ব্যারিস্টার কায়সার কামাল । স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সংসদের কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে স্পিকারের বক্তব্যের শুরুতে নতুন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আল্লাহর প্রশংসা, নবী করিম সা. এর ওপর দরুদ ও আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ বলে ভাষণ শুরু করেন। এরপর তিনি তাকে স্পিকার নির্বাচিত করার জন্য সংসদের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানান। তার এই ভাষণ মূহুর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ইসলামি শিষ্টাচারের প্রতি তার শ্রদ্ধার বিষয়টিকে নেটিজেনরা ব্যাপক প্রশংসা করেন। তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ১৯৪৪ সালে ২৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন বাংলাদেশি সামরিক ব্যক্তিত্ব, প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ফুটবলার, দৌড়বিদ ও মুক্তিযোদ্ধা। তিনি খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভোলা-৩ আসন থেকে তিনি পরপর ছয় মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য।
হাফিজ উদ্দিন আহমদের জন্ম ভোলার লালমোহনে। তার বাবার নাম আজাহার উদ্দিন আহম্মদ। তিনি চিকিৎসক ছিলেন। ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দুবার প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধী দলের ডেপুটি নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লিগের পক্ষ থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। হাফিজ উদ্দিনের মায়ের নাম করিমুন্নেছা। চার ভাই দুই বোনের মধ্যে হাফিজ সবার বড়।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ ১৯৫৯ সালে ম্যাট্রিক ও ১৯৬১ সালে আইএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৬৪ সালে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৬৫ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ পড়াশোনা শেষ করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে ১৯৬৮ সালে কমিশন পান এবং প্রথম কর্মরত ছিলেন প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। ১৯৭১ সালের মার্চে হাফিজ উদ্দিন তার ইউনিটের সঙ্গে যশোরের প্রত্যন্ত এলাকা জগদীশপুরে শীতকালীন প্রশিক্ষণে ছিলেন। ২৫ মার্চের পর তাদের ডেকে পাঠানো হয় এবং ২৯ মার্চ তারা সেনানিবাসে ফেরেন। পরে যোগ দেন যুদ্ধে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধ শেষ করে ভারতে যান। তিনি কামালপুর, ধলই বিওপি, কানাইঘাট ও সিলেটের এমসি কলেজের যুদ্ধে বেশ ভূমিকা রাখেন।
স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেই কর্মরত ছিলেন।
তিনি ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলােয়াড় হিসেবে বিভিন্ন দেশ সফর করেন। তিনি ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়কও ছিলেন।
