৫০ কোটি টাকা ঘুষ প্রস্তাব: নাম জানাতে আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ

এবার কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ রাখতে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাবকারী ব্যক্তিদের নাম–পরিচয় প্রকাশের দাবি করে জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক নেতার পক্ষে এই নোটিশ প্রেরণ করা হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে অথবা তাদের আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা বারের আইনজীবী আব্দুল মজিদ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হৃদয় হাসানের পক্ষে নোটিশটি পাঠান। তিনি বলেন, ‘বিকেলেই লিগ্যাল নোটিশটি এমপি সাহেবের বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে—আগামী সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের পরিচয় প্রকাশ অথবা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তা না হলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া শহরে একটি ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে মুফতি আমির হামজা বলেন, ‘প্রায় সব মিলিয়ে শুধু মেডিকেল কলেজের জন্য ৫০ কোটি টাকার বেশি অফার হয়েছে এই তিন দিনে। তা–ও কেউ জানবে না, শুধু আল্লাহ ছাড়া। আমি বলেছি, ৫০ কোটি কেন, ১০০ কোটি, পুরো কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আমি আমার জায়গা থেকে একচুল নড়ব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই পাঁচ বছর যদি দায়িত্বে থাকি, পাঁচটা টাকাও যেন না বাড়ে, সে রকমভাবে চলতে চাই।’

এ বক্তব্যের একটি ভিডিও পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির লাইক ও কমেন্টে বহু দর্শক কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখতে টাকা দিতে চাওয়া ব্যক্তিদের নাম–পরিচয় প্রকাশের দাবি জানান। ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পর, বুধবার (১ এপ্রিল) মুফতি আমির হামজার কাছে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশের দাবিতে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে আপনার বক্তব্যের অংশ ছবিসহ প্রচার করা হয়েছে। ইসলামী শরিয়া আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনে ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী। যাঁরা আপনাকে ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, তাদের নাম প্রকাশ না করে আপনি নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ না করা এবং তাদের আইনের হাতে তুলে না দেওয়া আইনের দৃষ্টিতে অপরাধীকে আশ্রয়–প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।’

এ বিষয়টি জানতে মুঠোফোনে আলাপকালে ছাত্রদল নেতা হৃদয় হাসান বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় জনগণ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর পেছনে কারা জড়িত, তা আমরা জানতে চাই। প্রয়োজনে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’ কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘আমির হামজা বলেছেন, তিন দিনে ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ কারা এই প্রস্তাব দিয়েছে, তাদের নাম প্রকাশ করছেন না। এটি একটি অপরাধ। তিনি জনসম্মুখে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ করুন।’

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে কুষ্টিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকের এক স্বত্বাধিকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি। তার বক্তব্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু তিনি যাচাই–বাছাই ছাড়াই এমন বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করছেন। তার কথার সংযম থাকা উচিত। অন্যথায় রাজনীতি ছেড়ে ইউটিউবভিত্তিক কাজে মনোযোগ দিলে হয়তো বেশি আয় করতে পারবেন।’ তিনি এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ বিষয়ে কথা বলতে মুফতি আমির হামজার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আলী মুজাহিদ জানান, ‘এখনও কোনো লিগ্যাল নোটিশের কপি হাতে পাইনি। হাতে পেলে তা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Comment

Scroll to Top