ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী যুবদল নেতা মো. মশিউর রহমান (মামুন)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে আজ সোমবার নিজের গুম হওয়ার অভিযোগ দাখিল করেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক এই সদস্য। গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ করার জন্য দেশে এসেছেন বলে জানান তিনি।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের আইজি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধেও তিনি অভিযোগ করেছেন। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন, সবার নাম প্রকাশ করেননি ভুক্তভোগী মশিউর রহমান। অজ্ঞাত অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ দাখিলের পর মশিউর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে তাকে প্রথমবার গুম করা হয়। এরপর ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আবার গুম করে। ওই দিন ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্যাংকক যাওয়ার পথে সাদা পোশাকে পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। হাতে হাতকড়া ও চোখে ব্লাইন্ড ফোল্ডেড অবস্থায় তাকে ছয় মাস আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট তাকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গারদখানায় রাখা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান।
মশিউর রহমান বলেন, তিনি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। গুম, নির্যাতনের কারণে তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না।
যুবদলের সাবেক এই নেতা বলেন, তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম এখনই পরিষ্কার করতে পারছি না। এরই মধ্যে অনেকে দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। যারা আছেন, নাম প্রকাশিত হলে তারাও হয়তো পালিয়ে যাবেন। বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মামুন। ১৯৮৫ সালে ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন মনিটরিং সেলের সদস্যও ছিলেন।
