জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমানে গোটা সমাজ চলছে গোঁজামিল আর টপ-ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সব জায়গায় শুধু হিসাব মেলানোর চেষ্টা চলছে, যেখানে ক্যাশ নেই কিন্তু খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব : উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করে অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।
জামায়াত আমির বলেন, “এই ‘গোঁজামিল’ দিয়ে দেশ চলতে পারে না। আমাদের উচিত ‘মেরিটোক্রেটিক’ (মেধাভিত্তিক) সোসাইটি গড়ে তোলা; ‘পলিটোক্রেটিক’ (রাজনীতিভিত্তিক) নয়।”
‘সংসদে সরকারি দলের মন্ত্রী-সংসদ সদস্যরা কথা বললে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নেই। শুধু কিছু অসৎ মানুষের কারণে আমরা সমস্যায় পড়ে গেছি।
দেশে বড় যত সিন্ডিকেট তৈরি হয়, তার সবগুলোর পেছনে সরকারি দলের হাত থাকে। অতীতের মতো বর্তমানেও এটি সত্য।’
সংসদে সব আশা বিফলে না গেলেও ভালো কিছু মেলেনি—এমন মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু গতকালকের ইভেন্টগুলো দেখলে বোঝা যায়, বাস্তবতা ভিন্ন।
আমি সংসদে দাঁড়িয়েও বলেছিলাম, আমরা নবীন সদস্য হলেও রাজনীতির সুস্থ চর্চা করতে চাই। জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার হিসাব আমাদের দিতে হবে। আমি বলব না যে সব আশা বিফলে যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য খুব ভালো কিছু ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয়নি।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি একই সিন্ডিকেট, ফ্যাসিজম আর গায়ের জোরের পথে হাঁটা হয়, তাহলে আমরা আল্লাহর দেওয়া শক্তি দিয়ে সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।’
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শুনলাম এখানেও নাকি বিসিবির মতো ‘ক্যু’ ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে।
কৃষিবিদদের মতো মেধাবী মানুষদের সংগঠনে কেন জোর করে নেতৃত্ব দখলের রাজনীতি থাকবে? উপযুক্ত লোককে উপযুক্ত জায়গায় বসানোই সরকারের সার্থকতা। এখানে দল, ধর্ম বা লিঙ্গ দেখার সুযোগ নেই। এই ব্যাড কালচারের কবর রচনা করতে হবে।”
অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর এ টি এম মাহবুব ই ইলাহীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটে বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
শ্রমিক কল্যাণের অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির : গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ‘ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন ২০২৬’-এ জামায়াত আমির বলেন, মালিকের ছেলে মালিক হবে, রাজার ছেলে রাজা হবে, শ্রমিকের ছেলে কেন মালিক বা প্রধানমন্ত্রী হবে না? তিনি বলেন, ‘আমার একজন শ্রমিক ভাইয়ের ছেলের কি প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে? নাই। আমরা চাই শ্রমিক ভাই বন্ধুটির ঘর থেকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী বের হয়ে আসুক। সেই শিক্ষা, সেই পরিবেশ সরকারকে, রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ফ্যাসিজমের জাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশ চব্বিশের বৈপ্লবিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মুক্তি পেয়েছে। এই আন্দোলনে যাঁরা অংশগ্রহণ করেছেন, জীবন দেওয়া লোকদের শতকরা ৬২ ভাগ হচ্ছেন শ্রমিক। আর আমরা বাকি সবাই মিলে ৩৮ ভাগ। এটি পৃথিবীর ইতিহাস।’
সরকারের কাছে স্পষ্ট দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘শ্রমিকরাও এই সমাজের নাগরিক। ভোট শ্রমিকরাও আমাদের দেয়। আপনাদেরও দিয়েছে। সুতরাং শ্রমিকদের সব বিষয় মালিকদের ঘাড়ের ওপর ঠেলে দেবেন না। রাষ্ট্রকেও দায়িত্ব নিতে হবে।’
ময়মনসিংহে আহতদের পাশে জামায়াত আমির : গত বৃহস্পতিবার শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত জামায়াত নেতাকর্মীদের দেখতে গতকাল ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হামপাতালে যান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আহতদের খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার থাকার পরও উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।
