বিগত নির্বাচন জনগণের নির্বাচন ছিল না, বরং এটি একটি চুক্তি নির্ভর ও ভাগাভাগির নির্বাচন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। শুক্রবার (০১ মে) বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করে মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, আশ্চর্য বিষয় হলো বিরোধী দল সংসদে দাঁড়িয়ে বলে তারা বিরোধী দল না। সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে আগে থেকেই চুক্তি হয়েছে কার কয়টি সিট হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামি আন্দোলনকে নির্বাচনে হারানো হয়েছে।
সমাবেশে সরকারের সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, অর্থনীতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বদলে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে। এ ছাড়াও বিএনপি নির্বাচনে জেতার জন্য জুলাই সনদ নিয়ে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির আশ্রয় নিয়েছে।
আরও পড়ুন
থানায় মামলা-জিডি করতে হয়রানি রোধে সরকারের পদক্ষেপ বাস্তবায়নাধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, বিরোধী দলের এক নায়েবে আমীর কুরআনের শাসনের জন্য সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন। আমি আশা করব, তারা যেন সংসদে শরিয়াহ বা কুরআন-সুন্নাহর পক্ষে বিল উত্থাপন করেন। আর যদি সেই আইন পাশ না হয়, তবে তাদের সংসদ ত্যাগ বা ওয়াকআউট করা উচিত।
মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার ইস্যু নিয়ে চলমান বিতর্ককে হাস্যকর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সংসদে এখন কে রাজাকার আর কে শিশু মুক্তিযোদ্ধা তা প্রমাণ করতেই সময় ব্যয় করা হচ্ছে। যারা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে কথা বলেন আবার ৭১-এর স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেন, তাদের এই দ্বিমুখী নীতি গ্রহণযোগ্য নয়। কার পরিবারে কে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তা স্পষ্ট করে জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না, বরং ইসলামের জন্য রাজনীতি করে। ইসলামী আন্দোলন ইসলামের প্রয়োজনে ক্ষমতা ত্যাগ করতে পারে, কিন্তু ক্ষমতার জন্য ইসলাম ত্যাগ করতে পারে না। দেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম করাই এই দলের মূল লক্ষ্য। অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
