“ছাত্রলীগও কখনো এভাবে পেটায়নি।” বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে দেখা করার সময় এমন আক্ষেপ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি ও পোস্ট ছড়ানোকে কেন্দ্র করে শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও আইনি পদক্ষেপ নিতে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ শাহবাগ থানায় গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়।
ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলাডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা
হামলার পর পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রক্তাক্ত অবস্থায় এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে উদ্ধার করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে আশ্রয় দেওয়া হয়। এদিকে থানা প্রাঙ্গণের বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ বিক্ষুব্ধ একদল লোক অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় থানার ভেতরে অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় থানা জামে মসজিদের ফটক দিয়ে তাদের নিরাপদে বের করে নেওয়া হয়।
উদ্ধারের পরপরই তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ডাকসু নেতার এমন মন্তব্য ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বর্তমান পরিস্থিতির তীব্রতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ঘটনার পর থেকে শাহবাগ থানা এলাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
