দীর্ঘ অপেক্ষায়ও মিলছে না তেল, সেচ নিয়ে বিপাকে কৃষকরা

জামালপুরে পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদা মতো ডিজেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। সময়মতো সেচ দিতে না পারায় বোরো ধানের ক্ষেত শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। বড় লসের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সরেজমিন দেখা যায়, তীব্র গরমের মধ্যেই কৃষকেরা ডিজেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরেও অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অল্প তেল নিয়ে ফিরছেন। ফলে ক্ষেতে ঠিকমতো সেচ দিতে না পারায় ফসল নিয়ে ক্ষতির শঙ্কায় কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও চাষ হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৩২ হেক্টর জমিতে। জেলার সাত উপজেলায় মোট ৫৩ হাজার ৩৬৮টি সেচ পাম্প রয়েছে।

এর মধ্যে ২৮ হাজার ১০৩ টি ডিজেল চালিত, যা দিয়ে ৫০ হাজার ৪০৬ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হয়।
শহরের জুঁই এন্টারপ্রাইজ তেলের দোকানে ডিজেল নিতে আসা কৃষকরা জানান, চাহিদা অনুযায়ী কৃষকরা পাচ্ছে ডিজেল। এখন বোরোর ভরা মৌসুম হওয়ায় ক্ষেতে পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন। কিন্তু তেল না থাকায় পানি দিতে পারছেন না তারা।

ডিজেল নিতে আসা কৃষক সোলায়মান হোসেন বলেন,‘মেলান্দহ উপজেলা থেকে জামালপুর শহরে তেল নিতে এসেছি। দুটি পাম্প ঘুরেছি, তেল পাইনি। পরে সকাল ১০টার দিকে জুঁই পাম্পে এসে লাইনে দাঁড়াই। প্রায় চার ঘণ্টা পরে ৫ লিটার ডিজেল পেয়েছি।’

মেলান্দহ উপজেলার চরগোবিন্দ এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন,‘একদিন সেচ দিলে আবার ৩-৪ দিন পরে সেচ দিতে হচ্ছে।

রোদে শুকিয়ে গেছে ক্ষেত। দেড়শ টাকা খরচ করে পাম্পে গেলে ৩-৫ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। এই তেলে একটি মেশিন কতক্ষণ চলে। খোলা বাজারে পাওয়া গেলে তেমন কষ্ট হতো না।’
সদর উপজেলার গোপালপুর এলাকার কৃষক মোস্তফা মিয়া বলেন,‘সকালে তেল নিতে এসেছি, দুপুর দুইটার পরে তেল পেয়েছি। সদর উপজেলায় এখনো কোনো ফুয়েল কার্ড করা হয়নি। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেই কষ্ট করে তেল নিতে হচ্ছে।’

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ শরীফ আলম খান বলেন, ‘কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো কৃষকের সমস্যা হলে কৃষি অফিসে জানালে তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জ্বালানি তদারকি কমিটির আহ্বায়ক এ কে এম আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ বলেন, ‘কৃষকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত ফুয়েল কার্ড সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। ‌কোনো কৃষক হয়রানির শিকার হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Comment

Scroll to Top