জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে যারা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করবে, তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এবার যারা ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসবে, তোমরা তোমাদের মা-বোনদের কাছ থেকে, সন্তানের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে এসো; তোমরা আর ফেরত যেতে পারবা না।’
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফীর পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা যে বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, তা হবে দুর্নীতিমুক্ত। নির্বাচনের নামে যে খেলা এত দিন চলে এসেছে, আমরা সেই খেলাই পাল্টে দেব।’ তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল ভোটারদের অর্থ ও খাবারের প্যাকেট দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, এমনকি ভোটারদের বাড়িতে যানবাহন পাঠানো হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘অন্যদিকে মানুষ নিজের খরচে আমাদের কর্মসূচিতে আসছে। এতে বোঝা যায়, কোন পর্যায়ের খেলা চলছে।’
নির্বাচনে কালো টাকা ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ এখন নির্বাচনে খরচের জন্য আনা হচ্ছে। নবীনগরের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এই চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।’
প্রশাসন ও পুলিশের উদ্দেশে বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অতীতে ভোটের অনিয়মের ঘটনা সবার সামনে ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, ‘দিনের ভোট রাতে দেওয়া হয়েছে, এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও ভোট পড়েছে।’ তিনি বলেন, কিছু কর্মকর্তা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন চাইলেও আবার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।’
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, তৃণমূলের সাংবাদিকেরা খবর পাঠালেও তা অনেক সময় প্রচার করা হয় না। তাঁর অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট দলের প্রচারণা ও প্রশংসায় গণমাধ্যমের বড় অংশ ব্যস্ত। তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ ভূমিকা না নিলে জনগণ এবার গণমাধ্যমকেও লাল কার্ড দেখাবে।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, এই নির্বাচন বহু প্রাণহানি ও সহিংসতার স্মৃতি বহন করছে। তাঁর ভাষায়, ‘এটি শহীদদের নির্বাচন, আহত ছাত্র–জনতার নির্বাচন।’ তিনি দাবি করেন, এই নির্বাচনের জন্য বহু মানুষ রক্ত, ঘাম ও শ্রম দিয়েছে। ভোটের দিন পর্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাসনাত বলেন, দেড় বছর আগে ঈদের সময় তাঁর একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি তখন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি বলেও জানান।
নবীনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় জেলা জামায়াতের আমির মোবারক হোসেন আখন্দ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফীসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
