এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘হত্যা’ পরিকল্পনার অভিযোগে দেশটির বিহারে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবক যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে ইমেইল করে অর্থের বিনিময়ে মোদিকে ‘হত্যা’ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভারতে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। তদন্তে উঠে এসেছে, অর্থ পাওয়ার আশায় তিনি এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা বাস্তবায়নের অর্থাৎ মোদিকে হত্যা করা হবে বলে দাবিও করেছিলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট বলছে, বিহার পুলিশ গত সপ্তাহে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবক যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)-কে ইমেইল করে অর্থের বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘হত্যা’ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ২২ দিনের মধ্যেই তিনি এ কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম আমান তিওয়ারি। তিনি বিহারের বক্সার জেলার আরারিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তার বাবাকে মন্দিরে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তিনি গত বুধবার (৮ এপ্রিল) গ্রেপ্তার হন। পুলিশ তার ল্যাপটপসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করেছে এবং তার কক্ষ সিলগালা করে দিয়েছে। পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)-কে এই ইমেইল পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে গোপন তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং বক্সারের সিমরি থানার অধীনে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। বক্সারের পুলিশ সুপার শুভম আর্য দ্য প্রিন্টকে বলেন, বেকার এই যুবক সিআইএকে ইমেইল পাঠিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ভঙ্গ করার বিনিময়ে অর্থ দাবি করেছিলেন। সে বলেছিল, ২২ দিনের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করতে অর্থাৎ মোদিকে হত্যা করতে পারবে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থ। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়েছে। তবে আমরা মনে করি, অর্থ পাওয়ার উদ্দেশ্যেই সে এই ইমেইল পাঠিয়েছে। গোপন তথ্যের বিনিময়ে অর্থ দাবি করাই ছিল তার লক্ষ্য।’ এটি অবশ্য অভিযুক্ত তিওয়ারির প্রথম অপরাধ নয়। ২০২২ সালে কিশোর বয়সে কলকাতা ও বক্সার পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছিল। সেসময় তিনি কলকাতা বিমানবন্দর উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ভুয়া ইমেইল পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ছিল। এদিকে বর্তমান মামলায় আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া তিওয়ারির পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং জব্দ করা ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিবারের অন্য কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
