ফজলুর রহমানের বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী: মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ

মহান জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে তিনি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা অসংসদীয় এবং তার বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলামের দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে তারাসহ ৭০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তৃতাকালে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান জামায়াতে ইসলামী এবং বিরোধীদলীয় নেতাকে নিয়ে অপ্রীতিকর ও অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেছেন। ‘মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না, কোনো শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না- করলে এটা ডাবল অপরাধ’— এমপি ফজলুর রহমানের এমন বক্তব্য মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়, বরং এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী।

রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমরা তার এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।
নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকারের কথা উল্লেখ করে পরিষদের নেতারা বলেন, স্বাধীন নাগরিক হিসেবে যেকোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের যেকোনো রাজনৈতিক দল ও মতের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন।

স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের মতাদর্শ অনুযায়ী আওয়ামী লীগ, জাসদ, জাতীয় পার্টি বা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। একইভাবে ১৯৭৯ সালে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করার পর অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতেও যোগদান করেন। যেসব মুক্তিযোদ্ধা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করেন, তারা দেশের স্বাধীনতা রক্ষার স্বার্থে আলাদা শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং জামায়াতে ইসলামী সেই শক্তিকে সমর্থন দেয়।
এমপি ফজলুর রহমানের অতীত রাজনীতির সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, ফজলুর রহমান নিজে অতীত আওয়ামী নীতি বিসর্জন দিয়ে অনেক দলবদলের পর বিএনপিতে যোগ দেন। কিশোরগঞ্জের কোম্পানি কমান্ডার আইয়ুব বিন হায়দারের ভাষ্যমতে, ফজলুর রহমান ট্রেনিং নেওয়ার পর কোনো অস্ত্রই হাতে নেননি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি কোনো কোম্পানি কমান্ডারও ছিলেন না।

জাতীয় সংসদকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা দলীয় আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগের জায়গা নয় উল্লেখ করে বিবৃতিদাতা বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে সংসদে যে হিংসাত্মক ও আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

বিবৃতিতে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ বলেন, আসুন আমরা বিভাজনের রাজনীতির মানসিকতা পরিহার করি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে চব্বিশের জুলাই সনদের নীতির আলোকে সংবিধান সংস্কার করে সকলে মিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশ বিনির্মাণের চেষ্টা করি। তা না হলে দেশ পুনরায় ফ্যাসিস্ট এবং স্বৈরাচারী শাসনের দিকে এগিয়ে যাবে, যা কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।

যৌথ এই বিবৃতিতে অন্যান্যদের মধ্যে সই করেছেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ফজলুল হক, সহ-সভাপতি মো. আবদুল ওয়ারেছ, ডা. আলতাফ হোসেন, মো. শাহাবুদ্দিন, মো. মতিউর রহমান প্রমুখ।

Leave a Comment

Scroll to Top