বর্তমানে বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য দুবাই বিভিন্ন সেক্টরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দুবাই কোন কাজের চাহিদা বেশি তা কাজের সেক্টরের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
বিশেষ করে দুবাই সরকার দুবাই কে আরো উন্নত শহরে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে নতুন অসংখ্য প্রজেক্ট অনুমোদিত করেছে। যেখানে বাংলাদেশী শ্রমিকদের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।
যেমন দুবাই প্রতিনিয়ত অসংখ্য অট্টালিকা বা বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। এ সকল অট্টালিকা তৈরিতে শ্রমিক থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ার পর্যন্ত অসংখ্য বাংলাদেশি কাজ করছে।
বিশেষ করে দুবাই কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বাংলাদেশী শ্রমিকদের চাহিদা সব থেকে বেশি। এক্ষেত্রে ন্যূনতম ২ টি থেকে ৩ টি অট্টালিকা তৈরিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
দুবাই কোন কাজের চাহিদা বেশি
দুবাই কোন কাজের চাহিদা বেশি তা নির্মাণ খাতে সাইট ম্যানেজার এবং নির্মাণ শ্রমিক সহ টেকনিশিয়ান ও ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে।
অপর দিকে দুবাই পর্যাপ্ত কৃষক না থাকায় কৃষি সেক্টরে কাজের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। কেননা প্রতিনিয়ত অসংখ্য বিদেশি কর্মী কৃষি সেক্টরে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দুবাই সাধারণ কাজের ক্ষেত্রে ড্রাইভিং এবং ক্লিনার সহ ডেলিভারি বয়, রেস্টুরেন্ট ওয়েটার এবং রিসিপশনিস্টদের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।
তবে দুবাই তথ্যপ্রযুক্তি বা আই টি সেক্টরে ডেটা এনালাইসিস, ওয়েব ডেভেলপার এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সহ সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের চাহিদা তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে।
এছাড়া দুবাই কোন কাজের চাহিদা বেশি তা ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের ক্ষেত্রে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সহ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়াদের চাহিদা সব থেকে বেশি।
দুবাই বেতন কত
সাধারণত দুবাই কাজের বেতন কাজের ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন প্রায় ৩০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
তবে দুবাই ওভারটাইম করার সুযোগ থাকায় প্রতি মাসে বেসিক বেতনের তুলনায় ন্যূনতম প্রায় ১০ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি বেতন পাওয়া যায়।
অর্থাৎ দুবাই ওভারটাইম করে প্রতি মাসে সর্বনিম্ন প্রায় ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত ইনকাম করা যায়।
দুবাই সর্বনিম্ন বেতন কত
দুবাই সর্বনিম্ন বেতন কাজের ধরনের উপর ভিত্তি করে ন্যূনতম প্রায় ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
তবে দুবাই কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সর্বনিম্ন বেতন কাজের ধরন অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
তবে দুবাই উচ্চপদস্থ কাজের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বেতন নূন্যতম প্রায় ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকার উপরে হয়ে থাকে।
দুবাই কোন কাজে কত বেতন
বর্তমানে দুবাই ইঞ্জিনিয়ারদের সর্বনিম্ন বেতন ন্যূনতম প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বেতন ন্যূনতম প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
অপর দিকে দুবাই আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে কাজের বেতন নূন্যতম প্রায় ১ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
এছাড়া দুবাই চিকিৎসা খাতে কাজের বেতন সর্বনিম্ন প্রায় ৮০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
দুবাই ভিসা দাম কত
ভিসার ক্যাটাগরির উপর ভিত্তি করে দুবাই ভিসার দাম সর্বনিম্ন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
তবে সরকারি ভাবে দুবাই ভিসা তৈরি করলে সর্বনিম্ন প্রায় ১ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে থাকে।
শেষ কথা
বর্তমানে দুবাই কোন কাজের চাহিদা বেশি তা কাজের ধরনের উপর নির্ভর করে। দুবাই সাধারণ কাজের তুলনায় চাহিদা সম্পন্ন কাজের বেতন সর্বনিম্ন প্রায় ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি হয়ে থাকে। তাই দুবাই চাহিদা সম্পন্ন কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।
FAQs (Frequently Asked Questions)
দুবাই ভিসা কবে খুলবে?
দুবাই ভিসা ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে বাংলাদেশে নাগরিকদের জন্য পুনরায় চালু করা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে দুবাই কত কিলোমিটার?
বাংলাদেশ থেকে দুবাই প্রায় ৩,৫৪৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
দুবাই যেতে কত বছর বয়স লাগে?
ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ক্ষেত্রে দুবাই যেতে ন্যূনতম ২১ বছর বয়স লাগে।
বাংলাদেশ থেকে দুবাই যেতে কত সময় লাগে?
দুবাই যেতে বিমানের ট্রানজিটের উপর ভিত্তি করে ন্যূনতম প্রায় ৮ ঘন্টা থেকে শুরু করে ২০ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
ঢাকা টু দুবাই বিমান ভাড়া কত?
বিমানের ক্যাটাগরির উপর ভিত্তি করে ঢাকা টু দুবাই বিমান ভাড়া নূন্যতম প্রায় ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
