বর্তমানে ঢাকা টু চায়না বিমান ভাড়া স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বছরের কিছু সময় এই বিমান ভাড়া নির্দিষ্ট হারে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। যেমন-
প্রতিবছর ভ্রমণ মৌসুম যেমন এপ্রিল-জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসে ঢাকা টু চীন বিমান ভাড়া তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে।
এছাড়া স্টুডেন্টদের ক্ষেত্রে ভর্তি এবং পরীক্ষা চলাকালীন সময় অর্থাৎ আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা টু চায়না বিমান ভাড়া বেশি হয়ে থাকে।
বর্তমানে ঢাকা থেকে চায়না বিমান ভাড়া সাধারণত ন্যূনতম প্রায় ২৫ হাজার টাকা থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মধ্যে শুরু হয়ে থাকে।
ঢাকা টু চায়না বিমান ভাড়া
চায়না বিশ্বের বৃহত্তম আয়তনের দেশ। ফলে ঢাকা টু চায়না বিমান ভাড়া চায়নার শহর গুলোর দূরত্ব অনুযায়ী কম বেশি হয়। যেমন-
ঢাকা থেকে সবথেকে কম দূরত্বে অবস্থিত চীনের কুনমিং শহরের বিমান ভাড়া প্রায় ২৬ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
অপরদিকে ঢাকা টু চায়না বিমান ভাড়া গুয়াংজু শহরের ক্ষেত্রে প্রায় ৩২ হাজার টাকা থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
এছাড়া ঢাকা থেকে সবথেকে দূরে অবস্থিত চায়নার বেইজিং শহরের বিমান ভাড়া প্রায় ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ঢাকা টু চায়না বিমান সময়সূচী
বর্তমানে সর্বমোট প্রায় ৪ টি এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে চায়না ফ্লাইট পরিচালনা করে। এয়ারলাইন্সগুলো সপ্তাহে প্রায় ১০ টি ফ্লাইট পরিচালনা করে।
ঢাকা টু চায়না বিমান ভাড়া সাধারণত সময়সূচি অনুযায়ী কম বেশি হয়। তাই সঠিক সময়সূচি অনুযায়ী টিকেট বুকিং করলে সাশ্রয় করা যায়।
| বিমান এয়ারলাইন্স | গন্তব্য | গন্তব্যের বার | টেকঅপ করার সময় |
| বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স | গুয়াংজু | বৃহস্পতিবার | আনুমানিক রাত ১০:২০ |
| এয়ার চায়না এয়ারলাইন্স | বেইজিং | মঙ্গলবার, বুধবার, শুক্রবার | আনুমানিক সকাল ১০:৩০ |
| ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্স | গুয়াংজু | বুধবার, শনিবার | আনুমানিক সকাল ৮:৩০ |
| চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স | বেইজিং | সোমবার, শনিবার | আনুমানিক বিকেল ৪:০০ |
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ বিমান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ যেকোন পরিস্থিতিতে টেকঅফের সময় পরিবর্তন করতে পারে। তাই সঠিক তথ্য পেতে এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে চীন যেতে কত টাকা লাগে
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে চীন যেতে সর্বনিম্ন প্রায় ৫ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে থাকে।
তবে বাংলাদেশ থেকে চীনের সবথেকে দূরবর্তী শহর বেইজিং যেতে প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ হতে পারে।
তবে অফসিজনে বাংলাদেশ থেকে চীন যাওয়ার মোট খরচ প্রায় ২০ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কম হয়ে থাকে।
সাধারণত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে ঢাকা টু চায়না বিমান ভাড়া কম থাকে। ফলে এ সময় চায়না যাওয়ার খরচ কিছুটা কম হয়।
বাংলাদেশ থেকে চায়না যেতে কত সময় লাগে
বর্তমানে ঢাকা থেকে বিমানের সাহায্যে চায়নার গুয়াংজু শহরে যেতে ন্যূনতম ৬ ঘন্টা থেকে শুরু করে প্রায় ৮ ঘন্টা সময় লাগে।
তবে এক বা একাধিক ট্রানজিট থাকলে ঢাকা থেকে গুয়াংজু শহরে পৌঁছাতে ন্যূনতম ১০ ঘন্টা থেকে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এছাড়া ট্রানজিটের উপর ভিত্তি করে ঢাকা থেকে চীনের বেইজিং শহরে পৌঁছাতে ন্যূনতম প্রায় ১৪ ঘন্টা থেকে ২০ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগে।
বাংলাদেশ থেকে চীনের দূরত্ব কত কিলোমিটার
চীনের আয়তন ৯,৫৯৬,৯৬০ বর্গকিলোমিটার। চীন পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে চীনের দূরত্ব চীনের শহরের উপর নির্ভর করে। যেমন-
বাংলাদেশ থেকে চীনের কুনমিং শহর সব থেকে কাছে অবস্থিত। বাংলাদেশ থেকে চীনের কুনমিং শহরের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার।
অপরদিকে দূরত্বের দিক থেকে চীনের গুয়াংজু শহর মধ্যম স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে চীনের গুয়াংজু শহরের দূরত্ব ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার।
এছাড়া চীনের বেইজিং শহর বাংলাদেশ থেকে সবথেকে দূরে অবস্থিত। বাংলাদেশ থেকে চীনের বেইজিং শহরের দূরত্ব প্রায় ৩ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার।
শেষ কথা
ঢাকা টু চায়না বিমান ভাড়া নির্দিষ্ট উপায়ে কমিয়ে আনা সম্ভব। যেমন- বিমান এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে টিকেট ক্রয় করা। এক্ষেত্রে অফ সিজন সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা অফ সিজনে টিকেট মূল্য এমনি কম থাকে। সে ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট থেকে বিমানের টিকেট ক্রয় করলে অনেক টাকা সাশ্রয় করা যায়। ধন্যবাদ।
FAQs (Frequently Asked Questions)
বাংলাদেশের তুলনায় চায়না কত গুন বড়?
বাংলাদেশের আয়তন প্রায় ১৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার এবং চীনের আয়তন প্রায় ৯,৫৯৬,৯৬০ বর্গকিলোমিটার, যা বাংলাদেশ থেকে প্রায়৬৫ গুণ বড়।
কোন এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে চায়না সব থেকে বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করে?
বর্তমানে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে চায়না উদ্দেশ্যে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৯ টি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
ঢাকা থেকে চায়নার কোন শহরে সব থেকে কম সময় যাওয়া যায়?
বর্তমানে ঢাকা থেকে সব থেকে কম সময় অর্থাৎ মাত্র ৪ ঘণ্টা থেকে ৫ ঘন্টার মধ্যে চীনের কুনমিং শহরে যাওয়া যায়।
সপ্তাহের কোন দিন ঢাকা টু চায়না বিমান ভাড়া কম থাকে?
প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার এবং বুধবার অন্যান্য দিনের তুলনায় বিমান ভাড়া তুলনামূলক কম থাকে।
কত আগে ঢাকা টু চায়না বিমানের টিকেট বুকিং করলে কম পাওয়া যায়?
সাধারণত গন্তব্যের দিন থেকে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ বা ১ মাস পূর্বে ঢাকা টু চায়না বিমানের টিকেট বুকিং করলে কম পাওয়া যায়।
ঢাকা টু চায়না বিজনেস ক্লাসের ভাড়া কত?
বর্তমানে ঢাকা থেকে চায়না বিমানের বিজনেস ক্লাস টিকেটের মূল্য ন্যূনতম প্রায় ৬০ হাজার টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
